শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৮

কৃত্তিকা ত্রিপুরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক

বিভিন্ন মিডিয়া ও পুলিশের তথ্য মতে দীঘিনালার ৯ মাইলে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী কৃত্তিকা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার সাথে জড়িত চার দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই দিনের কোন এক সময় শিশুটিকে ধর্ষণের পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সেদিন সে স্কুলের ক্লাশ বিরতির সময় দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে এসে আর ক্লাশে ফিরে যায়নি। পরে রাতে পাওয়া যায় তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে অপরাধীদের আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হবে কিনা তা আমরা জানি না।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারী-শিশু ধর্ষণ, খুন, নির্যাতনের ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু বিচার বা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে দেখি না। অনেক সময় অপরাধীদের আটক করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তারা আইনের নানা ফাক-ফোকড় দিয়ে জেল থেকে বের হয়ে যায়। এখানে আর একটা দিক লক্ষ্যণীয় যে, পাহাড়ে যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সেসব ঘটনার মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। ফলে আইনগতভাবে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। এছাড়া এর মধ্যে ঘুষ বাণিজ্য তো রয়েছেই। যারা বিচারকের চেয়ারে বসে থাকেন তারা ঘুষ-তুষ খেয়ে অপরাধীকে সাজা না দিয়ে জামিন মঞ্জুর করে দেন। ফলে এসব অপরাধীরা বীরদর্পে জেল থেকে বেরিয়ে এসে আবার দ্বিগুন উসাহে অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে।

আমরা যদি ১৯৯৬ সালে কল্পনা অপহরণের ঘটনা থেকে হিসাব মিলাই তাহলে শত শত নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা খুঁজে পাবো। এসব ঘটনা ঘটেছে হয় বাঙালি সেটলার দুর্বৃত্ত দ্বারা, নয়ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের দ্বারা। যেমন সেনা কর্মকর্তা লে. ফেরদৌসের দ্বারাই নারী নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহৃত হয়েছিলেন। যার খোঁজ আমরা দীর্ঘ ২২ বছরেও পাইনি। এমনকি এ ঘটনার কোন বিচারও আজো হয়নি। এভাবে এ যাবত সংঘটিত শত শত ঘটনার কোন বিচার নেই অথচ এমন অপরাধে জড়িতরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আরো যে বিষয়টি সবচেয়ে উদ্বেগজনক সেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের নিয়োজিত বাহিনী ও প্রশাসন সরাসরি এসব ঘটনায় জড়িত হয়ে পড়ে। তারা এসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। কল্পনা চাকমা অপহরণ ঘটনাকেও তারা নানা রং লাগিয়ে দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা আজো অব্যাহত রেখেছে। অপহরণে অভিযুক্ত লে. ফেরদৌসকে পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনীতে বহাল তবিয়তে রাখা হয়েছে। এই হলো রাষ্ট্রের পলিসি। একজন ক্রিমিনালকে যদি রাষ্ট্র এভাবে আগলে রাখে তাহলে অপরাধের মাত্রা কমবে কিভাবে?

মূলত অপারেশন উত্তরণ নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সেনা শাসন বলব রাখা হয়েছে এরই মাধ্যমে পাহাড়ি জনগণের উপর চালানো হচ্ছে নিপীড়নের স্টিম রোলার।  নারী-শিশু ধর্ষণ, হত্যার ঘটনাও এর থেকে কোন বিচ্ছিন্ন নয়। পরিকল্পনামাফিকই এসব করা হচ্ছে।

দশ-এগার বছরের শিশু কৃত্তিকা ত্রিপুরাকে যেভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে একজন প্রকৃত মানুষের পক্ষে তা কিছুতেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের উচিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের অপরাধ কর্ম করার সাহস না পায়।

নিরন চাকমা
০৪.০৮.১৮ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন