শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

সংখ্যালঘু জাতিগুলোর অস্তিত্ব কী ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে’ বিলীন হয়ে যাবে?

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার “বাংলাদেশে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সকলের পরিচিতি হবে বাংলাদেশী” এমন তত্ত্ব হাজির করেছে, যাতে আপাত দৃষ্টিতে খুবই ভালো মনে হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্য, সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে বিলীন করে দেয়ার সুক্ষ্ম পরিকল্পনা। 

বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, “আমরা পাহাড় সমতলে যারাই আছি, আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা সবাই বাংলাদেশী। জাতির সকল অংশ তথা ধর্মীয়, আঞ্চলিক ও নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে একটি সুসংহত জাতি গঠন করাই বিএনপি’র লক্ষ্য।”

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপি সরকার কী আবার পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে?

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময় পাহাড়িদের জন্য ব্রিটিশ প্রণীত “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০” এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের এটর্নি জেনারেলের বিদ্বেষপ্রসূত, ত্রুটিপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক অবস্থানের কারণে হাইকোর্ট ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনকে ‘মৃত আইন’ বলে রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দেন এবং ১৯০০ সালের আইনকে বৈধ ও কার্যকর আইন মর্মে ঘোষণা করেন।’

অতঃপর ২০১৮ সালে এর বিরুদ্ধে রাঙামাটি  ও খাগড়াছড়ি জেলা থেকে দুই  সেটলার বাঙালিকে দিয়ে উক্ত ২০১৭ সালের আপীল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করানো হয়।

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

পাহাড়ে উৎসবের রঙ যেন মলিন না হয়

সংগৃহিত ছবি

নানা শঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আজ (১২ এপ্রিল) বৈ-সা-বি উৎসবের রঙে রাঙিয়েছে। সেই সাথে রঙ ছড়িয়ে পড়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়। 

আজ চলছে উৎসবের প্রথম দিন ফুল বিঝু উৎসব। প্রথম প্রহর থেকেই ফুল তোলার পর সেই ফুলগুলো নিয়ে নদী-ছড়ায় জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে আগামী দিনের সুখ-শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন তারা।

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

আধুনিকতার ছোবলে উৎসবের ঐতিহ্যবাহী রীতি-নীতি যেন হারিয়ে না যায়

 সংগৃহিত ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল অর্পণ বা ‘ফুল গজানা’র মধ্যে দিয়ে।

এ উৎসবটি ত্রিপুরারা “বৈসুক/বৈসু”, মারমারা “সাংগ্রাই”, চাকমারা “বিঝু”, তঞ্চঙ্গ্যারা “বিষু”, গুর্খা-অহোমিরা “বিহু”, খেয়াংরা “সাংলান’, খুমিরা “সাংক্রাই”, চাকরা “সাংগ্রাইং”, ম্রোরা “চাংক্রান”, সান্তালরা “বাহা পরব” নামে এবং অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও নিজস্ব নামে উৎসবটি পালন করে। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে উৎসবটি কয়েকটি জাতিসত্তার উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈ-সা-বি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে (বিশেষত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে) এবং এ নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান (র‌্যালি, নদীতে ফুল অর্পণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি) করা হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

পাহাড়িদের দুর্বিষহ সময়ে আন্তঃজাতিগত ঐক্য সুদৃঢ় করেছিল ‘বৈ-সা-বি’ শব্দটি

সংগৃহিত ছবি 
সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে আশির দশকে সামরিক শাসন ও কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির কারণে পাহাড়িদের জীবন যখন দুর্বিষহ, প্রকাশ্যে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলনকারী শক্তি জেএসএস’র মধ্যে বিভেদ—এই এক কঠিন সময়ে পাহাড়িদের মধ্যে আন্তঃজাতিগত সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে দিয়েছিল যে একটি শব্দ সেটি হলো “বৈ-সা-বি”। ত্রিপুরা জাতিসত্তার উৎসব বৈসুক থেকে ‍“বৈ”, মারমা জাতিসত্তার উৎসব সাংগ্রাই থেকে “সা” ও চাকমাদের উৎসব বিঝু থেকে “বি” আদ্যক্ষরগুলো নিয়েই তৎকালীন সচেতন পাহাড়ি ছাত্র-যুবকরা এই “বৈ-সা-বি” শব্দটি প্রচলন করে জাতিসত্তাগুলোকে সাংস্কৃতিকগতভাবে ঐক্যের কাতারে নিয়ে আসেন। সবাই এতে সামিল হয়েছিলেন। সুদৃঢ় হয়েছিল আন্তঃজাতিগত ঐক্য।

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

আগামী নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে বেছে নেবেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিন পার্বত্য আসনেও চলছে নানা প্রচার-প্রচারণা। অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে শাসনক্ষমতা প্রত্যাশী বড় দলগুলোর প্রার্থীরা সেক্ষেত্রে এগিয়ে। তারা রাস্তাঘাট, পর্যটন... ইত্যাদি হরেক রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাহাড়ি জনগণকে এই উন্নয়নের রাজনীতি খুবই ভালোভাবে বুঝতে হবে। শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে গা ভাসিয়ে দিতে নেই।

অপরিকল্পিত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক উন্নয়ন মানেই পাহাড়ে ভূমি জবরদখল ও পাহাড়ি উচ্ছেদ। তার উদাহরণ আমরা সাজেকে দেখি, বান্দরবানে দেখি। সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়িতেও সেই চেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাই পাহাড়ে উন্নয়ন দরকার বটে, সেটা এমন উন্নয়ন নয় যেটা পাহাড়িদের নিজ জায়গা-জমি, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। তাই পাহাড়িদের জন্য উন্নয়নের চেয়েও বেশি দরকার অধিকার, নিরাপত্তা এবং নিজ বসতভিটা ও জায়গা জমিতে শান্তিতে বসবাস করার নিশচয়তা। আর দরকার পাহাড়িদের ওপর চলা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারার মতো সংসদ সদস্য।