প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করার অধিকার ইউপিডিএফের রয়েছে

ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনেতিক দলগুলোর মতো তারও সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র, দাবিনামা, কর্মসূচি রয়েছে, যা পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করে সর্বসাধারণের কাছে বিলি-বিক্রি করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ২ নং ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “পার্টির লক্ষ্য হইল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য অধিকার পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে শোষণ-নিপীড়নমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক সামজ প্রতিষ্ঠা করা।” (ইউপিডিএফের ওয়েবসাইট www.updfcht.com এর পাবলিকেশনস বিভাগে পুস্তিকাটি পাবেন) ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামেও কী নেপালের পরিণতি অপেক্ষা করছে?

গতকাল (২৬ আগস্ট) নেপালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনায় বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃত্যু ও পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের নাগরিক ছাড়াও ভারত, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া একই ঘটনায় তিব্বতেও হতাহত ও ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ কী সরকার দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র?

স্বৈরাচারী এরশাদ ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় গঠন করেন স্থানীয় সরকার পরিষদ। নাম দেওয়া হয় ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’, ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’ ও ‘খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’। তৎকালীন শান্তিবাহিনী তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এ পরিষদগুলো মেনে নেয়নি। 

শান্তিবাহিনীর বিরোধীতার মুখে এরশাদ ’৮৯ সালের ২৫ জুন আয়োজন করেন উক্ত তিন পরিষদের নির্বাচন। শান্তিবাহিনী এ নির্বাচনকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েও তা কার্যকর করতে পারেনি। এরশাদ সরকার যেনতেনভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেলে। নির্বাচনে রাঙামাটি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গৌতম দেওয়ান, খাগড়াছড়ি থেকে সমীরণ দেওয়ান ও বান্দরবান থেকে সাচিং প্রু জেরি। শান্তিবাহিনী তাদেরকে দালাল ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা জোরদার করে। সেই যে নির্বাচনটা হলো আজ পর্যন্ত আর কোন নির্বাচন হয়নি।

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মিডিয়ার মিথ্যাচার কী পাহাড়িদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দমন-পীড়ন চালানোর অপকৌশল?

সম্প্রতি কিছু ভাড়া খাটা সাংবাদিককে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করতে দেখা যাচ্ছে কিছু টিভি চ্যানেল ও নিউজ পোর্টালে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী মোটা অংকের টাকায় ভাড়া করে এসব সাংবাদিক নামধারী দুর্বৃত্তদের পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর এ বাহিনীর দেওয়া নাটকের স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী তারা সংবাদ সংগ্রহের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ তৈরিতে নেমে পড়ে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাদের নখদর্পণে থাকা কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ সাজায়, কাউকে দলের নেতা সাজায় এবং সেইসব নেতাদের (!!) কাছ থেকে অডিও সাক্ষাতকার, ভিডিও সাক্ষাতকার নিয়ে যে কোন দলের নেতার নামে চালিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু ঘটনা নিয়ে বিক্ষিপ্ত আলাপ

পার্বত্য চট্টগ্রাম আলোচিত হচ্ছে নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রতিনিয়ত একটা না একটা ঘটনা আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হাসপাতালে যাওয়ার পথে সাজেকে বিজিবি সদস্যদের চালিত সামরিক যানের ধাক্কায় সন্তানসম্ভবা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছে। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে শুরু হয়েছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বেশ কিছু জায়গায় সেনাবাহিনীর অভিযান। যার জন্য এলাকার জনগণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব নিয়ে কিছু বিক্ষিপ্ত আলাপ করা যাক। 

🔹কথিত উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

সরকারের কথিত উন্নয়নের থাবায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন ক্ষতবিক্ষত। সড়ক নির্মাণের নামে পাহাড়-বন উজাড় করে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসসাধন, যত্রতত্র পর্যটন স্পট তৈরি করে ব্যবসা, বহিরাগত অনুপ্রবেশ ও বসতিস্থাপনের ফলে ভূমি বেদখল এবং সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন... ইত্যাদির ফলে দিন দিন পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তার মধ্যে বিশ্বের জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবতো রয়েছেই। আর এতেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ আমরা প্রতিবছর দেখতে পাচ্ছি। মনে রাখতে হবে প্রকৃতিকে যদি তার মতো থাকতে দেওয়া না হয় তাহলে সে ভয়ঙ্কররূপে প্রতিশোধ নেয়। আমরা স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা দেখেছি ২০১৭ সালে। কিন্তু এরপরও আমাদের কোন শিক্ষা হয়নি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন যে কতটা প্রকৃতি-পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তা ভবিষ্যত পার্বত্য চট্টগ্রামই হয়তো বলে দেবে।

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক কী প্রাকৃতিক ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহ কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

যেভাবে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা
হচ্ছে সীমান্ত সড়ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১,০৩৬ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী। ২০২০ সাল থেকে এ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের জন্য ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৮শ ৬১ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২৮৮ কিলোমিটার সড়কের আরেকটি প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৬শ ৬৬ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। সড়কটি নির্মাণ শেষ হতে হতে এর ব্যয় নিশ্চয় হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে। 

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

সংখ্যালঘু জাতিগুলোর অস্তিত্ব কী ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে’ বিলীন হয়ে যাবে?

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার “বাংলাদেশে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সকলের পরিচিতি হবে বাংলাদেশী” এমন তত্ত্ব হাজির করেছে, যাতে আপাত দৃষ্টিতে খুবই ভালো মনে হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্য, সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে বিলীন করে দেয়ার সুক্ষ্ম পরিকল্পনা। 

বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, “আমরা পাহাড় সমতলে যারাই আছি, আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা সবাই বাংলাদেশী। জাতির সকল অংশ তথা ধর্মীয়, আঞ্চলিক ও নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে একটি সুসংহত জাতি গঠন করাই বিএনপি’র লক্ষ্য।”

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

আগামী নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে বেছে নেবেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিন পার্বত্য আসনেও চলছে নানা প্রচার-প্রচারণা। অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে শাসনক্ষমতা প্রত্যাশী বড় দলগুলোর প্রার্থীরা সেক্ষেত্রে এগিয়ে। তারা রাস্তাঘাট, পর্যটন... ইত্যাদি হরেক রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাহাড়ি জনগণকে এই উন্নয়নের রাজনীতি খুবই ভালোভাবে বুঝতে হবে। শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে গা ভাসিয়ে দিতে নেই।

অপরিকল্পিত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক উন্নয়ন মানেই পাহাড়ে ভূমি জবরদখল ও পাহাড়ি উচ্ছেদ। তার উদাহরণ আমরা সাজেকে দেখি, বান্দরবানে দেখি। সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়িতেও সেই চেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাই পাহাড়ে উন্নয়ন দরকার বটে, সেটা এমন উন্নয়ন নয় যেটা পাহাড়িদের নিজ জায়গা-জমি, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। তাই পাহাড়িদের জন্য উন্নয়নের চেয়েও বেশি দরকার অধিকার, নিরাপত্তা এবং নিজ বসতভিটা ও জায়গা জমিতে শান্তিতে বসবাস করার নিশচয়তা। আর দরকার পাহাড়িদের ওপর চলা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারার মতো সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিজয়ের ৫৪ বছর: পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে নিপীড়নের যাঁতাকল

- নিরন চাকমা

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ করেছে বাঙলাদেশ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই পার্বত্য চট্টগ্রাম নতুন করে নিপীড়নের শিকলে বন্দি হয়। পাকিস্তানিদের কবল থেকে এদেশের জনগণ মুক্তি লাভ করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ নতুন সংকটে পতিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে পাহাড়িসহ দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে অস্বীকার করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া, শেখ মুজিবুর রহমানের পাহাড়িদেরকে বাঙালি হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েনের ফলে পাহাড়ি জনগণকে এক নিপীড়নের যাঁতাকলের মুখে ফেলে দেওয়া হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ শাসকগোষ্ঠির এই বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণের ফলে পাহাড়িরা নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায়। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদে দাঁড়িয়ে পাহাড়িসহ এদেশের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের স্বার্থে কথাবার্তা বললেও তার কথা অগ্রাহ্য করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেখা দেয় আন্দোলন। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং এ দলটির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সশস্ত্র সংগ্রাম।

শনিবার, ২৮ মে, ২০১৬

থানছির দুর্গম অঞ্চলের মানুষ ভবিষ্যতে নিরাপদে থাকতে পারবে তো?

বান্দরবান জেলার থানছির যে অঞ্চলে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে সে এলাকাটি এখনো পাহাড়িদের জন্য সুরক্ষিত বলা যায়। সে এলাকায় পাহাড়িরা এখনো নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। সেখানে পাহাড়ি মেয়েরা নিরাপদে জুমক্ষেতে কাজ করতে পারে, কুয়া-ঝিড়ি থেকে পানি আনতে যেতে পারে, একা একা বাড়িতে থাকতে পারে। এক সময় গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামই ছিল এমন দুর্গম কিন্তু পাহাড়িদের জন্য নিরাপদ এলাকা। শত কষ্টের মাঝে জীবন-যাপন করলেও তারা ছিল নিরাপদে, তখন ছিল না সেটলার নামক কীটদের যন্ত্রণা। কিন্তু কালক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় রাস্তাঘাট হয়েছে, হাট-বাজার বসেছে। আর সেই সাথে বসানো হয়েছে ক্যাম্প, পুনর্বাসন করা হয়েছে সেটলার কীটদের। এরপর পাহাড়িদের উচ্ছেদের পালা শুরু। তারা নিজ গ্রাম-বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়ে যায়। আর পাহাড়িদের ফেলে যাওয়া জায়গা-জমিগুলো জবরদখল করে নেয় সেটলার কীটগুলো।

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কিছু কথা

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে  ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে এখন থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ- এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারীদের নিরাপত্তাহীনতা

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের দেশে দেশে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে আজকের এই দিনটিকে পালন করা হয়ে থাকে। 

যে চেতনাকে ধারণ করে নারী দিবসের স্বীকৃতি, বর্তমানে সে চেতনা অনেকটা ভোঁতা হয়ে গেছে। মূলতঃ এ দিনটি নারীদের অধিকার আদায়ের একটি দিন। আন্দোলনের মাধ্যমেই নারীরা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল এ দিনের স্বীকৃতি। কিন্তু  নারীদের গৌরবদীপ্ত এ দিনটিকে এখন একটি আনন্দ-উৎসবের দিনে পরিণত করা হয়েছে।

যে কারণে নারী দিবসের স্বীকৃতি
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ । সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুঁচ কারখানার নারী শ্রমিকেরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন।

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

খাগড়াছড়িতে হানিফ সংকেতের ইত্যাদি, আশঙ্কিত পাহাড়িরা

বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'র জন্য হানিফ সংকেত সবার কাছে অতি পরিচিত একজন ব্যক্তি। এই ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দেশের নানা অসংগতি তুলে ধরার চেষ্টা করে থাকেন। হানিফ সংকেত এবার ইত্যাদি অনুষ্ঠানটি ধারণ করেছেন পার্বত্য খাগড়াছড়িতে। খাগড়াছড়ি সেনানিবাস এলাকায় ধারণকৃত উক্ত অনুষ্ঠানটি গত ৩০ জানুয়ারি বিটিভি ও বিটিভি ওয়াল্ডে প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উপকারের বদলে অপকার বয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি।

সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৪

সরকারের উন্নয়নের ফাঁদ, পাহাড়িদের আর্তনাদ

'উন্নয়ন' নামক শব্দটি শুনতে ভালো লাগলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে এ শব্দটির সাথে মিছে আছে কান্না, উচ্ছেদ আর ভূমি হারানোর আর্তচিকার। তাই বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অপরাপর মন্ত্রী-এমপিদের মুখ থেকে উন্নয়নের কথা শুনে পাহাড়িরা আশঙ্কিত না হয়ে পারছে না। 
 
সরকার রাঙামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডকেল কলেজ স্থাপনের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। অন্যদিকে সাজেককে দার্জিলিং বানানোর ঘোষণা দিয়ে সেখানে পর্যটন কেন্দ্র সহ রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারার নাক্রাই ছড়ায় জলবিদ্যুত প্রকল্পের কথা শুনা যাচ্ছে। মন্ত্রী-এমপি তথা সরকারের কথাবার্তা শুনে ও কাজ কর্ম দেখে মনে হচ্ছে উন্নয়ন হলেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পাহাড়িরা যেন শুধু উন্নয়নই চাচ্ছে, আর কোন কিছুই নয়। আসলে এই 'উন্নয়ন' নামক শব্দটির পেছনে রয়েছে সরকারের সুগভীর ষড়যযন্ত্র। পাহাড়িদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার একটা গোপন পরিকল্পনা। 

শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি ছাড়া পাহাড়িদের ভূমি অধিকারের নিশ্চয়তা কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'পাহাড়ে বসবাসকারী সবার ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যা করার প্রয়োজন তার সবই করবে সরকার।'(ইত্তেফাক, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪)

তিনি আরো বলেছেন, 'যারা পার্বত্যাঞ্চলে থাকেন তাদের ভূমির অধিকার রয়েছে। তারা আমাদের দেশের নাগরিক। এজন্য দেশের নাগরিকদের মতো তারাও ভূমির অধিকার ভোগ করবেন।' (সূত্র: ঐ)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে,  তিনি কিভাবে পাহাড়িদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ে বা পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসকারীরা দেশের নাগরিকদের মতো ভূমি অধিকার ভোগ করার কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িরা ছাড়াও কয়েক লক্ষ বহিরাগত বাঙালি বসবাস করছেন। যাদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ে এসে পাহাড়িদের হাজার হাজার একর ভোগদখলীয় জমি বেদখল করে সেখানে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাহলে তিনি কি এই বহিরাগত বাঙালিদেরও ভূমি অধিকার নিশ্চিত করবেন?

শনিবার, ২ আগস্ট, ২০১৪

সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রীর নাকে বারুদ আর রক্তের গন্ধ !

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাঙামাটিতে ব্যক্তিগত সফরে এসে গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই ২০১৪) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনার সময় বলেছেন তিনি নাকি পার্বত্য এলাকায় এসে 'বিপদের গন্ধ, বারুদের গন্ধ, রক্তের গন্ধ এবং ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।' 

আসলে যারা এসব নিয়ে খেলে তারা প্রতিনিয়তই এসবের গন্ধ পান। কারণ তাদের নাকগুলো সবসময় এসব গন্ধে ঠাসা থাকে। ওবায়দুল কাদের সাহেব যেহেতু এসবের গন্ধ পেয়েছেন সেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণকে নিশ্চয় আরো বেশি সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০১৪

স্বাধীনতা শুধু বাঙালি জাতির, অন্য জাতির নয়

আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হলো। গাওয়া হলো লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত। খরচ করা হলো কোটি কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে যাবার সুযোগ না হলেও ঘরে বসে টিভির পর্দায় লাইভ অনুষ্ঠানটি দেখার সুযোগ হয়েছে। অনুষ্ঠান দেখে মনে হলো গিনেস বুকে বিশ্ব রেকর্ড করার জন্য এই আয়োজন ছিল শুধুমাত্র বাঙালি জাতির জন্যই। দেশের অন্যান্য জাতির জনগণ অনুষ্ঠানে বিভিন্নভাবে অংশ নিলেও তাদেরকে আজ আবারো বাঙালি জাতিতে রূপান্তরিত করা হলো। যেমনটি করা হয়েছিল শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে।

মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০১৪

সরকারকে শুধু প্রশংসা করতে হবে কেন?

কিছুদিন আগে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড.মিজানুর রহমান সরকারের ব্যর্থতায় সংখ্যালঘু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সমালোচনা করায় সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর তোপের মুখে পড়েছেন। জাতীয় মানববাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কি সরকারের সমালোচনা করার কোন অধিকার নেই?
দেশের একজন নাগরিক হিসেবে সরকারের সমালোচনা করা, দোষত্রুটি তুলে ধরার অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের লেবাসধারী এদেশের সরকারের কর্তাব্যক্তিরা(প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে) কিছুতেই সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। কেউ সমালোচনা করলে তাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়ে থাকে। এটা কেন?

শনিবার, ৮ মার্চ, ২০১৪

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারীদের নিরাপত্তা

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের দেশে দেশে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।

প্রত্যেক দেশের মতো আমাদের বাংলাদেশেও প্রতি বছর এদিনটি পালিত হয়ে আসছে। এদিনটিতে নারী সংগঠনগুলো তপর হয়ে ওঠে। সমাবেশ-মিছিল শোভাযাত্রা হয়। সরকারীভাবেও দিবসটি পালিত হয়। রাষ্ট্রের হোমরা চোমরারা নারী অধিকার নিয়ে অনেক গালভরা বাক্য বিস্তার করেন। অনেক প্রতিশ্রুতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। নারী অধিকার বিষয়ক সনদ, সিদ্ধান্ত, প্রস্তাব ও খসড়া আইন লিখতে দিস্তার পর দিস্তা কাগজ খরচ হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের নারী সমাজের ভাগ্যের তেমন একটা পরিবর্তন হয় না। নারী নির্যাতন, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ, নারীর অবমূল্যায়ন কমে না।

রবিবার, ২ মার্চ, ২০১৪

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতির ঘুম পাড়ানি গান আর কতদিন?

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের উপর এ যাবত যতগুলি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সব ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে নিরাপত্তার নামে নিয়োজিত বিশেষ কায়েমী স্বার্থবাদী মহলটি। মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনর্বাসিত বাঙালিদের(যাদের সেটলার বলা হয়)। কায়েমী স্বার্থবাদী অংশটির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদেই এই সেটলাররা ঝাপিয়ে পড়ে পাহাড়িদের উপর। তারা পাহাড়িদের গ্রামকে গ্রাম পুড়ে ছাড়খার করে দেয়। সাজেক, খাগড়াছড়ি, শনখোলা পাড়া, তাইন্দং তারই উদাহরণ। অতি সম্প্রতি খাগড়াছড়ির কমলছড়ি ও বেতছড়িতে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনাও তার কোন ব্যতিক্রম ছিল না। যখন পাহাড়িদের উপর হামলা চলে তখন শান্তির দূতটি অশা্ন্তির কালো থাবা নিয়ে হাজির হয়। আর তখন শান্তি উধাও হয়ে যায় দূর থেকে অনেক দূরে। কিন্তু যখন পাহাড়িদের ঘরবাড়ি পুড়ে শেষ হয়ে যায়, যখন পাহাড়িরা রক্তাক্ত হয় তখন ঐ শান্তির দূতটি অট্টহাসি দিয়ে হাজির হয় শান্তি-সম্প্রীতি-উন্নয়নের শ্লোগান নিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবতা এখন এটিই।