শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

পাহাড়িদের দুর্বিষহ সময়ে আন্তঃজাতিগত ঐক্য সুদৃঢ় করেছিল ‘বৈ-সা-বি’ শব্দটি

সংগৃহিত ছবি 
সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে আশির দশকে সামরিক শাসন ও কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির কারণে পাহাড়িদের জীবন যখন দুর্বিষহ, প্রকাশ্যে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলনকারী শক্তি জেএসএস’র মধ্যে বিভেদ—এই এক কঠিন সময়ে পাহাড়িদের মধ্যে আন্তঃজাতিগত সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে দিয়েছিল যে একটি শব্দ সেটি হলো “বৈ-সা-বি”। ত্রিপুরা জাতিসত্তার উৎসব বৈসুক থেকে ‍“বৈ”, মারমা জাতিসত্তার উৎসব সাংগ্রাই থেকে “সা” ও চাকমাদের উৎসব বিঝু থেকে “বি” আদ্যক্ষরগুলো নিয়েই তৎকালীন সচেতন পাহাড়ি ছাত্র-যুবকরা এই “বৈ-সা-বি” শব্দটি প্রচলন করে জাতিসত্তাগুলোকে সাংস্কৃতিকগতভাবে ঐক্যের কাতারে নিয়ে আসেন। সবাই এতে সামিল হয়েছিলেন। সুদৃঢ় হয়েছিল আন্তঃজাতিগত ঐক্য।

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

আগামী নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে বেছে নেবেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিন পার্বত্য আসনেও চলছে নানা প্রচার-প্রচারণা। অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে শাসনক্ষমতা প্রত্যাশী বড় দলগুলোর প্রার্থীরা সেক্ষেত্রে এগিয়ে। তারা রাস্তাঘাট, পর্যটন... ইত্যাদি হরেক রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাহাড়ি জনগণকে এই উন্নয়নের রাজনীতি খুবই ভালোভাবে বুঝতে হবে। শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে গা ভাসিয়ে দিতে নেই।

অপরিকল্পিত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক উন্নয়ন মানেই পাহাড়ে ভূমি জবরদখল ও পাহাড়ি উচ্ছেদ। তার উদাহরণ আমরা সাজেকে দেখি, বান্দরবানে দেখি। সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়িতেও সেই চেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাই পাহাড়ে উন্নয়ন দরকার বটে, সেটা এমন উন্নয়ন নয় যেটা পাহাড়িদের নিজ জায়গা-জমি, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। তাই পাহাড়িদের জন্য উন্নয়নের চেয়েও বেশি দরকার অধিকার, নিরাপত্তা এবং নিজ বসতভিটা ও জায়গা জমিতে শান্তিতে বসবাস করার নিশচয়তা। আর দরকার পাহাড়িদের ওপর চলা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারার মতো সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিজয়ের ৫৪ বছর: পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে নিপীড়নের যাঁতাকল

- নিরন চাকমা

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ করেছে বাঙলাদেশ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই পার্বত্য চট্টগ্রাম নতুন করে নিপীড়নের শিকলে বন্দি হয়। পাকিস্তানিদের কবল থেকে এদেশের জনগণ মুক্তি লাভ করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ নতুন সংকটে পতিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে পাহাড়িসহ দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে অস্বীকার করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া, শেখ মুজিবুর রহমানের পাহাড়িদেরকে বাঙালি হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েনের ফলে পাহাড়ি জনগণকে এক নিপীড়নের যাঁতাকলের মুখে ফেলে দেওয়া হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ শাসকগোষ্ঠির এই বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণের ফলে পাহাড়িরা নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায়। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদে দাঁড়িয়ে পাহাড়িসহ এদেশের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের স্বার্থে কথাবার্তা বললেও তার কথা অগ্রাহ্য করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেখা দেয় আন্দোলন। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং এ দলটির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সশস্ত্র সংগ্রাম।