শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

আধুনিকতার ছোবলে উৎসবের ঐতিহ্যবাহী রীতি-নীতি যেন হারিয়ে না যায়

 সংগৃহিত ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল অর্পণ বা ‘ফুল গজানা’র মধ্যে দিয়ে।

এ উৎসবটি ত্রিপুরারা “বৈসুক/বৈসু”, মারমারা “সাংগ্রাই”, চাকমারা “বিঝু”, তঞ্চঙ্গ্যারা “বিষু”, গুর্খা-অহোমিরা “বিহু”, খেয়াংরা “সাংলান’, খুমিরা “সাংক্রাই”, চাকরা “সাংগ্রাইং”, ম্রোরা “চাংক্রান”, সান্তালরা “বাহা পরব” নামে এবং অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও নিজস্ব নামে উৎসবটি পালন করে। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে উৎসবটি কয়েকটি জাতিসত্তার উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈ-সা-বি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে (বিশেষত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে) এবং এ নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান (র‌্যালি, নদীতে ফুল অর্পণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি) করা হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

পাহাড়িদের দুর্বিষহ সময়ে আন্তঃজাতিগত ঐক্য সুদৃঢ় করেছিল ‘বৈ-সা-বি’ শব্দটি

সংগৃহিত ছবি 
সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে আশির দশকে সামরিক শাসন ও কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির কারণে পাহাড়িদের জীবন যখন দুর্বিষহ, প্রকাশ্যে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলনকারী শক্তি জেএসএস’র মধ্যে বিভেদ—এই এক কঠিন সময়ে পাহাড়িদের মধ্যে আন্তঃজাতিগত সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে দিয়েছিল যে একটি শব্দ সেটি হলো “বৈ-সা-বি”। ত্রিপুরা জাতিসত্তার উৎসব বৈসুক থেকে ‍“বৈ”, মারমা জাতিসত্তার উৎসব সাংগ্রাই থেকে “সা” ও চাকমাদের উৎসব বিঝু থেকে “বি” আদ্যক্ষরগুলো নিয়েই তৎকালীন সচেতন পাহাড়ি ছাত্র-যুবকরা এই “বৈ-সা-বি” শব্দটি প্রচলন করে জাতিসত্তাগুলোকে সাংস্কৃতিকগতভাবে ঐক্যের কাতারে নিয়ে আসেন। সবাই এতে সামিল হয়েছিলেন। সুদৃঢ় হয়েছিল আন্তঃজাতিগত ঐক্য।

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

আগামী নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে বেছে নেবেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিন পার্বত্য আসনেও চলছে নানা প্রচার-প্রচারণা। অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে শাসনক্ষমতা প্রত্যাশী বড় দলগুলোর প্রার্থীরা সেক্ষেত্রে এগিয়ে। তারা রাস্তাঘাট, পর্যটন... ইত্যাদি হরেক রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাহাড়ি জনগণকে এই উন্নয়নের রাজনীতি খুবই ভালোভাবে বুঝতে হবে। শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে গা ভাসিয়ে দিতে নেই।

অপরিকল্পিত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক উন্নয়ন মানেই পাহাড়ে ভূমি জবরদখল ও পাহাড়ি উচ্ছেদ। তার উদাহরণ আমরা সাজেকে দেখি, বান্দরবানে দেখি। সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়িতেও সেই চেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাই পাহাড়ে উন্নয়ন দরকার বটে, সেটা এমন উন্নয়ন নয় যেটা পাহাড়িদের নিজ জায়গা-জমি, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। তাই পাহাড়িদের জন্য উন্নয়নের চেয়েও বেশি দরকার অধিকার, নিরাপত্তা এবং নিজ বসতভিটা ও জায়গা জমিতে শান্তিতে বসবাস করার নিশচয়তা। আর দরকার পাহাড়িদের ওপর চলা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারার মতো সংসদ সদস্য।