বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপি সরকার কী আবার পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে?

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময় পাহাড়িদের জন্য ব্রিটিশ প্রণীত “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০” এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের এটর্নি জেনারেলের বিদ্বেষপ্রসূত, ত্রুটিপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক অবস্থানের কারণে হাইকোর্ট ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনকে ‘মৃত আইন’ বলে রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দেন এবং ১৯০০ সালের আইনকে বৈধ ও কার্যকর আইন মর্মে ঘোষণা করেন।’

অতঃপর ২০১৮ সালে এর বিরুদ্ধে রাঙামাটি  ও খাগড়াছড়ি জেলা থেকে দুই  সেটলার বাঙালিকে দিয়ে উক্ত ২০১৭ সালের আপীল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করানো হয়।

২০২২ সালে, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সিভিল পিটিশন নং ৫৪/২০১৮ এবং ১৯২/২০১৮ সমর্থন করেন এবং ২০২৪ সালের মে মাসে এই অনুরোধের পুনরাবৃত্তি করে, পূর্বোক্ত রায়গুলি থেকে কিছু শব্দ বাদ দেওয়া জন্য অনুরোধ করেন। চ্যালেঞ্জ করা অংশটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘রাজা’ (ঐতিহ্যগত প্রধান) ও ‘ইন্ডিজেনাস’ শব্দগুলি, সেইসাথে অন্যান্য অনুচ্ছেদগুলি, যেগুলো প্রথাগত আইনের বিষয়গুলির সাথে সম্পর্কিত।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না দিলেও বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার আবার এই পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সুপ্রীম কোর্টে সেটলারদের দায়ের করা উক্ত রিভিউ আবেদনটি কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি নিঃসন্দেহে সিএইচটি রেগুলেশনকে দুর্বল করার মাধ্যমে বাতিল করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে ধরেই নিতে হবে।

তাই, “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামের হেডম্যান, কার্বারি থেকে শুরু করে সকলে সোচ্চার হোন, আন্দোলন গড়ে তুলুন।

নিরন চাকমা
২৩.০৪.২০২৬

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

পাহাড়ে উৎসবের রঙ যেন মলিন না হয়

সংগৃহিত ছবি

নানা শঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আজ (১২ এপ্রিল) বৈ-সা-বি উৎসবের রঙে রাঙিয়েছে। সেই সাথে রঙ ছড়িয়ে পড়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়। 

আজ চলছে উৎসবের প্রথম দিন ফুল বিঝু উৎসব। প্রথম প্রহর থেকেই ফুল তোলার পর সেই ফুলগুলো নিয়ে নদী-ছড়ায় জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে আগামী দিনের সুখ-শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন তারা।

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

আধুনিকতার ছোবলে উৎসবের ঐতিহ্যবাহী রীতি-নীতি যেন হারিয়ে না যায়

 সংগৃহিত ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল অর্পণ বা ‘ফুল গজানা’র মধ্যে দিয়ে।

এ উৎসবটি ত্রিপুরারা “বৈসুক/বৈসু”, মারমারা “সাংগ্রাই”, চাকমারা “বিঝু”, তঞ্চঙ্গ্যারা “বিষু”, গুর্খা-অহোমিরা “বিহু”, খেয়াংরা “সাংলান’, খুমিরা “সাংক্রাই”, চাকরা “সাংগ্রাইং”, ম্রোরা “চাংক্রান”, সান্তালরা “বাহা পরব” নামে এবং অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও নিজস্ব নামে উৎসবটি পালন করে। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে উৎসবটি কয়েকটি জাতিসত্তার উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈ-সা-বি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে (বিশেষত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে) এবং এ নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান (র‌্যালি, নদীতে ফুল অর্পণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি) করা হয়েছে।