শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

জাতিগত আত্মপরিচয়ের গ্লানি থেকে মুক্তির উপায় কী?

জাতিগত আত্মপরিচয়ের সাথে একটি জাতির অস্তিত্ব নিহিত রয়েছে। আত্মপরিচয়হীন জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জুম্ম বা পাহাড়িরা এই দশায় পড়েছে। তারা এখন আত্মপরিচযের গ্লানি বা সংকটে ভুগতে বাধ্য হচ্ছে। রাষ্ট্রই এই সংকট তৈরি করে রেখেছে।

সংগৃহিত ছবি
ব্রিটিশ আমল থেকে যদি আমরা দেখি তাহলে দেখতে পাই যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী জুম্মদের কখনো হিলম্যান, কখনো ট্রাইব, কখনো ট্রাইবাল, কখনো উপজাতি, কখনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী... ইত্যাদি পরিচয়ে পরিচিত করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৭ সালের স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দটি মেনে নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামে এখনো ‘উপজাতি’ শব্দটি চোখে পড়ে।

জাতিসত্তাগুলোর জাতিগত পরিচয় বিলুপ্ত করে দেওয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজটি করা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে। সেখানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসকারী সবাইকে বাঙালি বানানো হয়েছিল। তৎসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন।