![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
নানা শঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আজ
(১২ এপ্রিল) বৈ-সা-বি উৎসবের রঙে রাঙিয়েছে। সেই সাথে রঙ ছড়িয়ে পড়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়।
আজ চলছে উৎসবের প্রথম দিন ফুল বিঝু উৎসব। প্রথম প্রহর থেকেই ফুল তোলার পর সেই ফুলগুলো নিয়ে নদী-ছড়ায় জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে আগামী দিনের সুখ-শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন তারা।
এই উৎসবটি ত্রিপুরারা “বৈসুক/বৈসু”, মারমারা “সাংগ্রাই”, চাকমারা “বিঝু”,
তঞ্চঙ্গ্যারা “বিষু”, গুর্খা-অহোমিরা “বিহু”, খেয়াংরা “সাংলান’, খুমিরা “সাংক্রাই”,
চাকরা “সাংগ্রাইং”, ম্রোরা “চাংক্রান”, সান্তালরা “বাহা পরব” নামে এবং অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও
নিজস্ব নামে উৎসবটি পালন করে। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে উৎসবটি কয়েকটি জাতিসত্তার
উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে “বৈ-সা-বি” বা “বৈসাবি” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
পাহাড়ের বৃহৎ এই সামাজিক উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান
তারেক রহমান তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন “বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সারা
বিশ্বে দেশের মর্যাদায় এক উজ্জ্বলতর ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন ছোট
ছোট জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের সমান অগ্রগতি, বিকাশ, নিরাপত্তা ও সংবিধানে
বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ে কিংবা সমতলে
বসবাসকারী, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের সমান অধিকার।”
কিন্তু আমরা পাহাড়ে কি দেখতে পাই? আমরা দেখি সেখানে যুগ যুগ ধরে জারি রাখা
হয়েছে সেনা শাসন। প্রতিনিয়ত সেনা অভিযানের নামে সাধারণ জনগণের ওপর চলছে নিপীড়ন-নির্যাতন।
ভূমি বেদখল। সেটলার বাঙালি কর্তৃক সাম্প্রদায়িক হামলা-হত্যাকাণ্ড। এগুলো হলো পাহাড়ে
চিরাচরিত চিত্র।
পাহাড়ে সেনাশাসন, দমন-পীড়ন জারি রাখার কারণে পাহাড়িরা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক
অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিনা ওয়ারেন্টে যে কাউকে গ্রেফতার-নিপীড়নের শিকার হয়ে বছরের পর
বছর জেলে অন্তরীণ থাকতে হয়। সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা সংকুচিত।
নিজ বাড়িতেও নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা নেই। আজকে (১২ এপ্রিল) ফুল বিঝুর দিনেও খাগড়াছড়িতে
জনসাধারণ সেনা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
আশ্বাসকৃত সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার কোথায়?
আমরা আরো দেখতে পাই যে, পাহাড়ে সরকার-প্রশাসন চালায় মূলত সেখানে নিয়োজিত
সেনা-গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। সাধারণ প্রশাসন সেখানে নামখাওয়াস্তে দায়িত্ব
পালন করে। আর সেই সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের কথায় বা রিপোর্টের ভিত্তিতে
সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যার ফলে পাহাড়িরা নানা ষড়যন্ত্রের
শিকার হন।
তাই, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপরোক্ত
বিষয়গুলো বিষয়ে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে দৃঢ়ভাবে
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সেনা-গোয়েন্দাদের নানা চক্রান্ত পাহাড়ের এই উৎসবের
রঙ মলিন করে দিতে পারে।
আমরা আশা করবো, আজকে পাহাড়ে যেভাবে উৎসবের রঙ ছড়িয়েছে, আগামীতেও যেন তা
বজায় থাকে। এ রঙ যেন কোনভাবেই মলিন না হয়।
নিরন চাকমা
১২.০৪.২০২৬

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন