২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময় পাহাড়িদের জন্য ব্রিটিশ প্রণীত “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০” এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের এটর্নি জেনারেলের বিদ্বেষপ্রসূত, ত্রুটিপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক অবস্থানের কারণে হাইকোর্ট ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনকে ‘মৃত আইন’ বলে রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দেন এবং ১৯০০ সালের আইনকে বৈধ ও কার্যকর আইন মর্মে ঘোষণা করেন।’
অতঃপর ২০১৮ সালে এর বিরুদ্ধে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা থেকে দুই সেটলার বাঙালিকে দিয়ে উক্ত ২০১৭ সালের আপীল
বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করানো হয়।
২০২২ সালে, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সিভিল পিটিশন নং ৫৪/২০১৮ এবং ১৯২/২০১৮
সমর্থন করেন এবং ২০২৪ সালের মে মাসে এই অনুরোধের পুনরাবৃত্তি করে, পূর্বোক্ত রায়গুলি
থেকে কিছু শব্দ বাদ দেওয়া জন্য অনুরোধ করেন। চ্যালেঞ্জ করা অংশটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
‘রাজা’ (ঐতিহ্যগত প্রধান) ও ‘ইন্ডিজেনাস’ শব্দগুলি, সেইসাথে অন্যান্য অনুচ্ছেদগুলি,
যেগুলো প্রথাগত আইনের বিষয়গুলির সাথে সম্পর্কিত।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কোন
সিদ্ধান্ত না দিলেও বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার আবার
এই পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সুপ্রীম কোর্টে সেটলারদের দায়ের করা উক্ত
রিভিউ আবেদনটি কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি নিঃসন্দেহে সিএইচটি রেগুলেশনকে
দুর্বল করার মাধ্যমে বাতিল করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে ধরেই নিতে হবে।
তাই, “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল
রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামের হেডম্যান, কার্বারি থেকে শুরু করে সকলে সোচ্চার হোন, আন্দোলন
গড়ে তুলুন।
নিরন চাকমা
২৩.০৪.২০২৬
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন