ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনেতিক দলগুলোর মতো তারও সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র, দাবিনামা, কর্মসূচি রয়েছে, যা পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করে সর্বসাধারণের কাছে বিলি-বিক্রি করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ২ নং ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “পার্টির লক্ষ্য হইল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য অধিকার পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে শোষণ-নিপীড়নমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক সামজ প্রতিষ্ঠা করা।” (ইউপিডিএফের ওয়েবসাইট www.updfcht.com এর পাবলিকেশনস বিভাগে পুস্তিকাটি পাবেন) ।
সুতরাং, একজন সেনা কর্মকর্তার একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” বলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এটা রাষ্ট্রীয় প্রদত্ত ক্ষমতা জাহির ও সেনাশাসনের বৈধতা আদায়ের অপচেষ্টা করা ছাড়া কিছুই নয় এবং এটা পার্বত্য চট্টগ্রামে দমন-পীড়ন বৃদ্ধির একটি অপকৌশলও বটে।
মনে রাখতে হবে, ইউপিডিএফ কোনো “সন্ত্রাসী সংগঠন” বা দল নয়। দলটি সম্পূুর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গণতান্ত্রিক পন্থায় সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিঙের মাধ্যমে সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা এবং সরকাারের কাছে ন্যায্য দাবি জানানোর অধিকার ইউপিডিএফের রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে এটাও বলা দরকার যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকর্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োগ পেলেই যেন নিজেকে রাজা ভাবেন। আমরা দেখেছি ২০২২ সালে তৎকালীন চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন রাঙামাটিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের “সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “আসুন যুদ্ধ করি, ৩০ মিনিটও টিকতে পারবেন না।”
একই অনুষ্ঠানে তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদও তার ভাষায় ‘সন্ত্রাসীদের’ মাটির তলা থেকে বের করে নিয়ে আসার হুমকি প্রদান করেছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কী পরিণতি হয়েছে তা দেশের সকলেই জানেন। তারা নিজেরাই খুন, গুমের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে এখন তাদের বিচার চলমান।
বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত যেসব সেনা কর্মকর্তা নিজেদের রাজা ভেবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছেন, নিজেদের সৃষ্ট সশস্ত্র ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে কিংবা নিজেরাই বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ভবিষ্যতে তাদের পরিণতিও যে সাইফুল আবেদীন, বেনজীরদের মতো হবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
কাজেই, সরকাারের চাকরি করতে এসে রাষ্ট্রীয় প্রদত্ত ক্ষমতা অপব্যবহার করবেন না। পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সেনাশাসন প্রত্যাহার করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করুন, দল-সংগঠন তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের রাজনেতিক দাবি-দাওয়াকে গুরুত্ব দিন, কথিত “সন্ত্রাসী” তকমা দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিয়ে সংবিধান প্রদত্ত অধিকার খর্ব করবেন না।
নিরন চাকমা
০৯.০৯.২০২৬

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন