বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী ও তার হর্তাকর্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতির কনসার্ট, সভা-সমাবেশ আয়োজন করে, কথায় কথায় শান্তি সম্প্রীতির বাণী শোনায়, ‘শান্তি সম্প্রীতি’র শ্লোগান সম্বলিত বড় বড় বিলবোর্ড টাঙিয়ে দেয়, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি অধরা থেকে যায়। কারণ, দিনশেষে বাঙালি শাসকগোষ্ঠী পাহাড়িদের ওপর দমননীতি জারি রেখে নিপীড়ন-নির্যাতন চালায়। সাম্প্রদায়িক হামলা-হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। জায়গা-জমি কেড়ে নেয়। নিজ বসতভিটা-জমি থেকে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করে। বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়। ফলে তাদের শান্তি-সম্প্রীতির বাণী অশান্তির বাণীতে পরিণত হয়।
শাসকগোষ্ঠি যদি সত্যিকার অর্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চাইতো তাহলে নিশ্চয় ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামের ফৌজি শাসন জারি রাখতো না। দমনমূলক ১১ দফা নির্দেশনা (ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের জারিকৃত) জারি রাখতো না। রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত সেটলার বাঙালিদের সরিয়ে নিয়ে ভূমি সমস্যার যথাযথ সমাধান করতো।
কিন্তু তার কোন কিছুই না করে তারা শান্তি-সম্প্রীতির ঘুম পাড়ানির গান শুনিয়ে পাহাড়িদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে চায়। আর পাহাড়িদের মধ্যেকার একটি অংশ শাসকের ঘুম পাড়ানি গানে মুগ্ধ হয়ে কুম্ভকর্ণের ঘুম দিয়েই রয়েছে। এই শ্রেণির পাহাড়িরা ঘুমের ঘোরে শাসকের পা চাটে, গুণগান গেয়ে বেড়ায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকৃত শান্তির পূর্বশর্ত হচ্ছে- পাহাড়িদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমননীতি পরিহার করা, অগণতান্ত্রিক শাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’ বাতিল করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা. পাহাড়িদের কাছ থেকে বেদখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দেওয়া, অন্যায় নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনর্বাসিত সেটলার বাঙালিদের সমতলে সরিয়ে নেওয়া, এবং সর্বোপরি পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া।
মনে রাখতে হবে, একদিকে ‘শান্তি-সম্প্রীতি’র বাণী শুনিয়ে আরেকদিকে দমননীতি জারি রাখলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।
নিরন চাকমা
১৭.১০.২০২৬

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন