সম্প্রতি কিছু ভাড়া খাটা সাংবাদিককে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি
তুলে ধরে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করতে দেখা যাচ্ছে কিছু টিভি চ্যানেল
ও নিউজ পোর্টালে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী মোটা অংকের টাকায় ভাড়া করে এসব সাংবাদিক নামধারী
দুর্বৃত্তদের পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর এ বাহিনীর দেওয়া নাটকের স্ক্রিপ্ট
অনুযায়ী তারা সংবাদ সংগ্রহের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ তৈরিতে নেমে পড়ে। রাষ্ট্রীয়
বাহিনী তাদের নখদর্পণে থাকা কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ সাজায়, কাউকে দলের
নেতা সাজায় এবং সেইসব নেতাদের (!!) কাছ থেকে অডিও সাক্ষাতকার, ভিডিও সাক্ষাতকার নিয়ে
যে কোন দলের নেতার নামে চালিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না।
এমন কান্ড দেখা গেছে সম্প্রতি ‘নিউজ টুয়েন্টিফোর’ নামের একটি চ্যানেলে প্রকাশিত
ভিডিও প্রতিবেদনে। সেখানে ইউপিডিএফর মুখপাত্র অংগ্য মারমার নামে যে ব্যক্তির অডিও সাক্ষাতকার
প্রচার করা হয়েছে সে ব্যক্তি যে অংগ্য মারমা ছিল না তা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে স্পষ্ট বুঝা
যায়। আদতে অংগ্য মারমা সে ধরনের কোন কথাই বলেননি। এটা যে কী ধরনের সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতাহীন
মিথ্যাচার তা কী ভাবা যায়?
অতীতের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় যে, মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি
জনগণের ওপর অন্যায়-অবিচার, দমন-পীড়ন বৃদ্ধি করতেই রাষ্ট্রীয় বাহিনী পরিকল্পিতভাবে কিছু
ভাড়া খাটা সাংবাদিককে নিয়ে এসে এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। এর
মূল উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের অবৈধ সামরিক শাসন পাকাপোক্ত করা। এধরনের
সংবাদ পরিবেশের পরবর্তী তারা এলাকায় এলাকায় অপারেশনের নামে জনগণের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন-নির্যাতন।
তাদের পোষ্য সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দিয়ে খুন, গুম, অপহরণসহ নানা অপকর্ম সংঘটিত করে
পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এবারও হয়তো তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। কিছুদিন পর হয়তো এ ধরনের
নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র আমরা দেখতে পাবো।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকদের নীতিমালা বা নৈতিকতা কী মিথ্যা, বানোয়াট
সংবাদ পরিবেশন করা? দেশের মিডিয়া হাউজগুলো কেন এমন মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ পরিবেশনে
সাংবাদিকদের উৎসাহিত করে থাকে? তারা কী জানে না তাদের মিডিয়া হাউজে নিয়োজিত ভাড়া খাটা
সাংবাদিকরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য সাজিয়ে রিপোর্ট তৈরি
করে তথ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে? নাকি মিডিয়া হাউজগুলো এই তথ্য সন্ত্রাসের অংশীদার?
দেশের মিডিয়া বা গণমাধ্যমগুলো থেকে মানুষ সত্য ও বস্তুনিষ্ট তথ্য পেতে চায়।
কিন্তু তারা কী সেটা দিতে পারছে? মানুষ যে দিন দিন গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারাচ্ছে তারা
কি এ খবর রাখে?
দেশের গণমাধ্যমগুলোর প্রতি বিনীত আহ্বান থাকবে- মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ নয়,
সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে মানুষের আস্থা সৃষ্টি করুন। আপনাদের একটি মিথ্যা
সংবাদই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের ওপর নেমে আসতে পারে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন।
সুতরাং, রাষ্ট্রীয় বাহিনী-সংস্থার প্ররোচনায় বা প্রেসক্রিপশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে
এমন মিথ্যাচার করা থেকে বিরত থাকুন।
নিরন চাকমা
০৮.০৮.২০২৬
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন