গতকাল (২৬ আগস্ট) নেপালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া
ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনায়
বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃত্যু ও পাঁচ শতাধিক
মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের
নাগরিক ছাড়াও ভারত, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া একই ঘটনায়
তিব্বতেও হতাহত ও ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামেও কী নেপালের পরিণতি অপেক্ষা করছে?
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ কী সরকার দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র?
স্বৈরাচারী এরশাদ ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় গঠন করেন স্থানীয় সরকার
পরিষদ। নাম দেওয়া হয় ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’, ‘বান্দরবান পার্বত্য
জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’ ও ‘খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’। তৎকালীন
শান্তিবাহিনী তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এ পরিষদগুলো মেনে নেয়নি।
শান্তিবাহিনীর বিরোধীতার মুখে এরশাদ ’৮৯ সালের ২৫ জুন আয়োজন করেন উক্ত তিন পরিষদের নির্বাচন। শান্তিবাহিনী এ নির্বাচনকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েও তা কার্যকর করতে পারেনি। এরশাদ সরকার যেনতেনভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেলে। নির্বাচনে রাঙামাটি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গৌতম দেওয়ান, খাগড়াছড়ি থেকে সমীরণ দেওয়ান ও বান্দরবান থেকে সাচিং প্রু জেরি। শান্তিবাহিনী তাদেরকে দালাল ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা জোরদার করে। সেই যে নির্বাচনটা হলো আজ পর্যন্ত আর কোন নির্বাচন হয়নি।
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মিডিয়ার মিথ্যাচার কী পাহাড়িদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দমন-পীড়ন চালানোর অপকৌশল?
সম্প্রতি কিছু ভাড়া খাটা সাংবাদিককে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি
তুলে ধরে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করতে দেখা যাচ্ছে কিছু টিভি চ্যানেল
ও নিউজ পোর্টালে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী মোটা অংকের টাকায় ভাড়া করে এসব সাংবাদিক নামধারী
দুর্বৃত্তদের পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর এ বাহিনীর দেওয়া নাটকের স্ক্রিপ্ট
অনুযায়ী তারা সংবাদ সংগ্রহের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ তৈরিতে নেমে পড়ে। রাষ্ট্রীয়
বাহিনী তাদের নখদর্পণে থাকা কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ সাজায়, কাউকে দলের
নেতা সাজায় এবং সেইসব নেতাদের (!!) কাছ থেকে অডিও সাক্ষাতকার, ভিডিও সাক্ষাতকার নিয়ে
যে কোন দলের নেতার নামে চালিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না।
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
ড. গৌতম চাকমার পার্বত্য চুক্তি বিষয়ে মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনা সম্পর্কে কিছু কথা
সম্প্রতি গত ১ আগস্ট ২০২৬ (১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক
শাসন কায়েম হওয়ার দিনে) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি অঙ্কন চাকমার সঞ্চালনায়
আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের
অধ্যাপক ড. গৌতম চাকমার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিষয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে চুক্তি
স্বাক্ষরকারী জেএসএস (সন্তু)-এর কিছু নেতা-কর্মী ও তাদের পক্ষের কিছু লোকজনকে নানা
সমালোচনায় মেতে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে তারা সঠিকভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ
হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গৌতম বাবুকে নিয়ে নোংরা ভাষায় সমালোচনাসহ তাঁকে খারাপভাবে
চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু ঘটনা নিয়ে বিক্ষিপ্ত আলাপ
পার্বত্য চট্টগ্রাম আলোচিত হচ্ছে নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রতিনিয়ত একটা
না একটা ঘটনা আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণের ফলে প্রাকৃতিক
দুর্যোগ, হাসপাতালে যাওয়ার পথে সাজেকে বিজিবি সদস্যদের চালিত সামরিক যানের ধাক্কায়
সন্তানসম্ভবা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছে। এসব ঘটনার
রেশ কাটতে না কাটতে শুরু হয়েছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বেশ কিছু জায়গায় সেনাবাহিনীর অভিযান।
যার জন্য এলাকার জনগণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব নিয়ে কিছু বিক্ষিপ্ত
আলাপ করা যাক।
কথিত উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ
সরকারের কথিত উন্নয়নের থাবায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন ক্ষতবিক্ষত। সড়ক নির্মাণের নামে পাহাড়-বন উজাড় করে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসসাধন, যত্রতত্র পর্যটন স্পট তৈরি করে ব্যবসা, বহিরাগত অনুপ্রবেশ ও বসতিস্থাপনের ফলে ভূমি বেদখল এবং সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন... ইত্যাদির ফলে দিন দিন পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তার মধ্যে বিশ্বের জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবতো রয়েছেই। আর এতেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ আমরা প্রতিবছর দেখতে পাচ্ছি। মনে রাখতে হবে প্রকৃতিকে যদি তার মতো থাকতে দেওয়া না হয় তাহলে সে ভয়ঙ্কররূপে প্রতিশোধ নেয়। আমরা স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা দেখেছি ২০১৭ সালে। কিন্তু এরপরও আমাদের কোন শিক্ষা হয়নি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন যে কতটা প্রকৃতি-পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তা ভবিষ্যত পার্বত্য চট্টগ্রামই হয়তো বলে দেবে।
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক কী প্রাকৃতিক ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহ কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
![]() |
| যেভাবে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে সীমান্ত সড়ক |
পার্বত্য চট্টগ্রামে ১,০৩৬ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী। ২০২০ সাল থেকে এ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের জন্য ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৮শ ৬১ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২৮৮ কিলোমিটার সড়কের আরেকটি প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৬শ ৬৬ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। সড়কটি নির্মাণ শেষ হতে হতে এর ব্যয় নিশ্চয় হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
জাতিগত আত্মপরিচয়ের গ্লানি থেকে মুক্তির উপায় কী?
জাতিগত আত্মপরিচয়ের সাথে একটি জাতির অস্তিত্ব নিহিত রয়েছে। আত্মপরিচয়হীন জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জুম্ম বা পাহাড়িরা এই দশায় পড়েছে। তারা এখন আত্মপরিচযের গ্লানি বা সংকটে ভুগতে বাধ্য হচ্ছে। রাষ্ট্রই এই সংকট তৈরি করে রেখেছে।
![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
জাতিসত্তাগুলোর জাতিগত পরিচয় বিলুপ্ত করে দেওয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজটি করা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে। সেখানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসকারী সবাইকে বাঙালি বানানো হয়েছিল। তৎসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন।
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
সংখ্যালঘু জাতিগুলোর অস্তিত্ব কী ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে’ বিলীন হয়ে যাবে?
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার “বাংলাদেশে সবাই
সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সকলের পরিচিতি হবে বাংলাদেশী” এমন তত্ত্ব হাজির করেছে, যাতে
আপাত দৃষ্টিতে খুবই ভালো মনে হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্য,
সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে বিলীন করে দেয়ার সুক্ষ্ম পরিকল্পনা।
বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, “আমরা পাহাড় সমতলে যারাই আছি, আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা সবাই বাংলাদেশী। জাতির সকল অংশ তথা ধর্মীয়, আঞ্চলিক ও নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে একটি সুসংহত জাতি গঠন করাই বিএনপি’র লক্ষ্য।”
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
বিএনপি সরকার কী আবার পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে?
অতঃপর ২০১৮ সালে এর বিরুদ্ধে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা থেকে দুই সেটলার বাঙালিকে দিয়ে উক্ত ২০১৭ সালের আপীল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করানো হয়।
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
পাহাড়ে উৎসবের রঙ যেন মলিন না হয়
![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
নানা শঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আজ
(১২ এপ্রিল) বৈ-সা-বি উৎসবের রঙে রাঙিয়েছে। সেই সাথে রঙ ছড়িয়ে পড়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়।
আজ চলছে উৎসবের প্রথম দিন ফুল বিঝু উৎসব। প্রথম প্রহর থেকেই ফুল তোলার পর সেই ফুলগুলো নিয়ে নদী-ছড়ায় জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে আগামী দিনের সুখ-শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন তারা।
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
আধুনিকতার ছোবলে উৎসবের ঐতিহ্যবাহী রীতি-নীতি যেন হারিয়ে না যায়
![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
এ উৎসবটি ত্রিপুরারা “বৈসুক/বৈসু”, মারমারা “সাংগ্রাই”, চাকমারা “বিঝু”, তঞ্চঙ্গ্যারা “বিষু”, গুর্খা-অহোমিরা “বিহু”, খেয়াংরা “সাংলান’, খুমিরা “সাংক্রাই”, চাকরা “সাংগ্রাইং”, ম্রোরা “চাংক্রান”, সান্তালরা “বাহা পরব” নামে এবং অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও নিজস্ব নামে উৎসবটি পালন করে। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে উৎসবটি কয়েকটি জাতিসত্তার উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈ-সা-বি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে (বিশেষত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে) এবং এ নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান (র্যালি, নদীতে ফুল অর্পণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি) করা হয়েছে।
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
পাহাড়িদের দুর্বিষহ সময়ে আন্তঃজাতিগত ঐক্য সুদৃঢ় করেছিল ‘বৈ-সা-বি’ শব্দটি
সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে আশির দশকে সামরিক শাসন ও কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির কারণে পাহাড়িদের জীবন যখন দুর্বিষহ, প্রকাশ্যে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলনকারী শক্তি জেএসএস’র মধ্যে বিভেদ—এই এক কঠিন সময়ে পাহাড়িদের মধ্যে আন্তঃজাতিগত সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে দিয়েছিল যে একটি শব্দ সেটি হলো “বৈ-সা-বি”। ত্রিপুরা জাতিসত্তার উৎসব বৈসুক থেকে “বৈ”, মারমা জাতিসত্তার উৎসব সাংগ্রাই থেকে “সা” ও চাকমাদের উৎসব বিঝু থেকে “বি” আদ্যক্ষরগুলো নিয়েই তৎকালীন সচেতন পাহাড়ি ছাত্র-যুবকরা এই “বৈ-সা-বি” শব্দটি প্রচলন করে জাতিসত্তাগুলোকে সাংস্কৃতিকগতভাবে ঐক্যের কাতারে নিয়ে আসেন। সবাই এতে সামিল হয়েছিলেন। সুদৃঢ় হয়েছিল আন্তঃজাতিগত ঐক্য।
সংগৃহিত ছবি
শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে বেছে নেবেন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন। তিন পার্বত্য আসনেও চলছে নানা প্রচার-প্রচারণা। অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিশেষ করে শাসনক্ষমতা প্রত্যাশী বড় দলগুলোর প্রার্থীরা সেক্ষেত্রে এগিয়ে। তারা রাস্তাঘাট,
পর্যটন... ইত্যাদি হরেক রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাহাড়ি জনগণকে এই উন্নয়নের
রাজনীতি খুবই ভালোভাবে বুঝতে হবে। শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে গা ভাসিয়ে দিতে নেই।
অপরিকল্পিত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক উন্নয়ন মানেই পাহাড়ে ভূমি জবরদখল ও পাহাড়ি উচ্ছেদ। তার উদাহরণ আমরা সাজেকে দেখি, বান্দরবানে দেখি। সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়িতেও সেই চেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাই পাহাড়ে উন্নয়ন দরকার বটে, সেটা এমন উন্নয়ন নয় যেটা পাহাড়িদের নিজ জায়গা-জমি, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। তাই পাহাড়িদের জন্য উন্নয়নের চেয়েও বেশি দরকার অধিকার, নিরাপত্তা এবং নিজ বসতভিটা ও জায়গা জমিতে শান্তিতে বসবাস করার নিশচয়তা। আর দরকার পাহাড়িদের ওপর চলা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারার মতো সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
বিজয়ের ৫৪ বছর: পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে নিপীড়নের যাঁতাকল
- নিরন চাকমা
আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ করেছে বাঙলাদেশ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের।কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই পার্বত্য চট্টগ্রাম নতুন করে নিপীড়নের শিকলে বন্দি হয়। পাকিস্তানিদের কবল থেকে এদেশের জনগণ মুক্তি লাভ করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ নতুন সংকটে পতিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে পাহাড়িসহ দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে অস্বীকার করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া, শেখ মুজিবুর রহমানের পাহাড়িদেরকে বাঙালি হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েনের ফলে পাহাড়ি জনগণকে এক নিপীড়নের যাঁতাকলের মুখে ফেলে দেওয়া হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ শাসকগোষ্ঠির এই বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণের ফলে পাহাড়িরা নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায়। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদে দাঁড়িয়ে পাহাড়িসহ এদেশের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের স্বার্থে কথাবার্তা বললেও তার কথা অগ্রাহ্য করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেখা দেয় আন্দোলন। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং এ দলটির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সশস্ত্র সংগ্রাম।
শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বাহিনী/সংস্থাগুলো কেন মাইকেল চাকমাকে টার্গেট করেছে?
![]() |
| মাইকেল চাকমা |
ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমাকে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বাহিনী/সংস্থাগুলোর টার্গেট
করার কারণ কি জানেন? ওই যে হাসিনার আমলে গুম, খুনের চলমান বিচার। কারণ, মাইকেল চাকমা
গুমের শিকার হয়ে ৫ বছর ৪ মাস “আয়নাঘর” নামক কুখ্যাত গোপন বন্দিশালায় আটক ছিলেন। চব্বিশের
গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে সেই বন্দিশালা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পর এ গু/মের ঘটনায়
মাইকেল চাকমা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
এই গুম, খুনে কারা জড়িত ইতোমধ্যে তা মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।
মাইকেল চাকমা গুম-খুনে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি চান এবং দেশ থেকে এই গুমের সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করতে চান। সে লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় তার দাবি-দাওয়া তুলে ধরে আসছেন। সেজন্য তারা মাইকেল চাকমার কণ্ঠরোধ করে রাখতে চাচ্ছেন এবং বহু পুরোনো মামলায় চুপিসারে বাদী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে আদালতের মাধ্যমে তাকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫
পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘স্বায়ত্তশাসন’ দাবির যৌক্তিকতা
নিরন চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি এক সময় ছিল স্বাধীন রাজ্য। তৎসময়ে এ অঞ্চলের মানুষ তাদের স্বতন্ত্র সত্তা নিয়ে জীবন-যাপন করেছে। কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা যখন পার্বত্য অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ দখলে নিতে হয় তখন থেকেই তারা এ অঞ্চলের স্বাধীন মর্যাদাকে আস্তে আস্তে কেড়ে নিতে শুরু করে। তারা নিজেদের প্রশাসন ব্যবস্থা এ অঞ্চলের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। যদিও তারা এ অঞ্চলের মানুষদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং ১৯০০ সালের রেগুলেশনের মাধ্যমে কিছু সুরক্ষার পদক্ষেপও নিয়েছিলেন। তবে তারা যে অবিচারটি গেছেন সেটি হচ্ছে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র গঠন করে দেয়ার সময় সম্পূর্ণ পাহাড়ি অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া। তাদের এই পদক্ষেপই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পরবর্তীকালের সকল দুর্দশার মূল কারণ।
![]() |
| ছবিটি পিসিপি’র ৩ যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ফেস্টুন। |
শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫
উন্নয়নের ঘুম পাড়ানি গান শুনে ঘুমিয়ে থাকলেই বিপদ
- নিরন চাকমা
![]() |
| পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের একটি চিত্র |
সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫
বই, দলীয় পতাকা, পোস্টার-লিফলেট-ব্যানার রাখলে কেন অপরাধ হবে?
- নিরন চাকমা
যে কোন সংগঠন পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালায়, সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখে। আর সেই সংগঠনের সমর্থক, শুভাকাঙ্খী কিংবা সাধারণ জনগণও দলিল হিসেবে সেগুলো সংরক্ষণ করে থাকে।
যারা লেখক তাদেরও সেগুলো সংরক্ষণ করতে হয়। কারণ তাদেরকে লেখালেখি করতে হয়, ইতিহাস-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে হয়।
শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫
আগের ফুল বিঝু, এখনকার ফুল বিঝু
- নিরন চাকমা
ভোরে ফুল তোলা, ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, গৃহপালিত
পশুদের (গরু, ছাগল, মহিষ...) ফুলের মালা পরিয়ে সাজিয়ে দেওয়া, গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে
গাঙ/ছড়ার পাড়ে ফুল দেওয়া/ফুল নিবেদন করে নতুন দিনগুলোর সুখ-শান্তি কামনা করা (আজকাল
বুদ্ধমূর্তিতেও ফুল দিয়ে একই প্রার্থনা করা হয়) এরপর গোসল করে পরিশুদ্ধ হয়ে বাড়িতে
ফিরে আসা--এটাই হচ্ছে ফুল বিঝুর মাহাত্ম্য। এছাড়া বাড়িতে বা পাড়ায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকলে
ছড়া থেকে পানি নিয়ে এসে তাদেরকে গোসল করানো হতো। আর অনেকে ফুলবিঝুর দিনেই নানা রকম
শাক-সবজি/তরিতরকারি সংগ্রহে বনে-জঙ্গলে যেতেন (এখন তো সবকিছু কিনতে পাওয়া যায়) এবং
পরদিন অর্থাৎ মূল/মুর বিঝুতে পরিবেশনের জন্য সেসব সবজির মিশ্রণে পাজন রান্না করা হতো।
ভাদজরা ফুল
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫
উৎসবের আমেজে যেন সবকিছু ভুলে না যাই
- নিরন চাকমা
গত বছর ১৯-২০ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও রাঙামাটিতে পাহাড়িদের ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ক্ষত ভুলিয়ে রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এবারে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ উৎসব পালনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার চাচ্ছে। ইতোমধ্যে যেভাবে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে কিংবা মেলা-অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে সরকার অনেকটা সফল হতে চলেছে।


.png)



.jpg)

.jpg)


.png)
.jpg)


